• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন |

নীলফামারীতে চীনের উপহারের ১০০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের জায়গা পরিদর্শনে সচিব

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে চীনের উপহারের এক হাজার শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের জায়গা পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে জেলা সদরের দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস মাঠে হাসপাতাল জন্য নির্ধারিত ২৫ একরের ওই জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন,‘ এখানে এয়ারপোর্ট আছে। এটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হতে পারে। এখানে রেল যোগাযোগ আছে, যা আরো উন্নত হতে পারে। এখানে সড়ক যোগাযোগে মহাসড়ক আছে। সার্বিক যোগাযোগ কাঠামোর সুফলটা আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। এছাড়াও এখান থেকে সার্ক অঞ্চলের যোগাযোগটা আমার মনে হয় সহজ হবে। সেই ক্ষেত্রে এই এলাকাটা চিকিৎসার হাব হবে এবং সেণ্টার অব এক্সিলেন্স হবে। সেই বিবেচনায়ও আমরা এই স্থানকে সুপারিশ করেছি’।

নীলফামারীতে চীনের উপহারের হাসপাতাল স্থাপনের প্রেক্ষাপটের কথায় স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘এই এলাকায় ১৬টি জেলায় প্রায় আড়াই কোটি জনগণ আছে। আমরা কিছু কিছু সার্ভে করেছি। এখানে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ আমরা দেখছি। গত পাঁচ বছর, দুই বছর এই সমস্ত ডেটা নিচ্ছি যে এখানে কি ধরনের রোগীরা ঢাকা যায় কিংবা রাজশাহী ডিভিশনাল শহরে চলে যায় কিংবা বাইরে চলে যায়। আমরা লক্ষ্য করেছি খুলনা অঞ্চল থেকেই অনেক বড় একটা সার্কেলের রোগীরা বাইরে চলে যায়। তাই সবকিছু বিবেচনায় আমরা এই স্থানটি নির্ধারণ করেছি’।

তিনি আরও বলেন,‘এক হাজার শয্যার যে হাসপাতাল হবে তার মধ্যে ৫০০ বেড হবে সাধারণ এবং ৫০০ বেড হবে বিশেষায়িত। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট গুলো গণপূর্ত, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং এনএপিডি এই চারটা কারিগরি প্রতিষ্ঠান কারিগরি দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে আমাদের একটা থিমেটিক নকশা তৈরি করে দেবেন। সে অনুসারে গঠিত কমিটির সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে’।

এসময় নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক একটা বিবেচনা হল মেডিক্যাল কলেজটি চীনের উপহারের হাসপাতালটির কাছাকাছি যদি প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে হয়তো আমাদের ছাত্র ছাত্রীরা এখান থেকে আরও সমৃদ্ধ হতে পারবে। উন্নত চিকিৎসা ও টেকনোলজি ব্যবহার করে তারা জ্ঞান অর্জন করে। আমাদের ছেলেমেয়েরা ভালো লেখাপড়ার সুবিধা পাবে। সেই ক্ষেত্রে মেডিক্যাল কলেজটিও ওখানে হলে আমাদের এই অঞ্চলের ছাত্র ছাত্রীরা যারা শিক্ষার জন্য আসবে তারা উপকৃত হবে। আমাদের মেডিক্যাল কলেজের ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমরা বিশ্বাস করি ইনশাল্লাহ বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে’। এসময় তিনি নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামান প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ